বাংলাদেশ

‘অকারণ মাথা ঘামানোই পুরুষতন্ত্র, মুক্তির নাম নারীবাদ’

ডিসেম্বর ০৩, ২০২২ ৯:০৫ রাত
‘অকারণ মাথা ঘামানোই পুরুষতন্ত্র, মুক্তির নাম নারীবাদ’

ঢাকা:‘ছোটবেলায় টমবয় বলা হতো আমাকে। রাগ হতো বটেই তবে ভাবতাম এই অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন কী? মেয়েদের ছোট চুল দেখলে সে টমবয় কেন? সমাজের দেওয়া এমন আরও অনেক শব্দ আছে। আমার কাছে এই অতিরিক্ত মাথা ঘামানোর নামই পুরুষতন্ত্র। এর থেকে মুক্তির নাম নারীবাদ।’ গত বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ব নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলীর পার্ক মাঠে 'সাংগাতে'র আয়োজিত 'দক্ষিণ এশীয় নারী দিবস'  উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংগীতশিল্পী সায়ান।

গত ২৫ নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ দিবস শুরু হয়। চলবে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত। প্রতি বছর ১৬ দিনব্যাপী পালিত হয় নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান পক্ষ। 

বুধবারের অনুষ্ঠানে মঞ্চ মুখরিত করে প্রতিবাদী গানের ঝড় তুলেন শিল্পী সায়ান। 

পুরুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পুরুষতন্ত্র থাকে মানুষের মনে, পুরুষের ভেতরেও থাকে না। থাকে মানুষের মনে। ঝড়ের সম্মুখীন হতে হবে। যেকোনো কিছু অর্জন করতে হলে সাময়িক একটা অশান্তিকে মেনে নিতে হয়। হয়ত আপনি পুরুষতান্ত্রিক না কিন্তু আপনার পরিবার পুরুষতান্ত্রিকতাকে বহন করে। আপনাকেও নারীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে। এ যুদ্ধ শুধু নারীর জন্য না, মানুষের জন্যও। মানুষের অধিকারের জন্যও। নারী কত পথ কেটে কেটে নিজের পথ তৈরি করে সে অনুভূতি সত্যিই হাসির বিষয় না। যে পথ পুরুষের জন্য  তৈরি করা থাকে, সে পথ নারীকে তৈরি করে নিতে হয়।’

নাচের তালে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের সঞ্জীবনী সুধা। 

নিজের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ট্রন্সজন্ডার হতে পারি। শরীরে না হই মননে আমিও নারী। তাই আজকের দিনে আমিও আমার অধিকার আদায়ের কথা বলতে চাই। আমি কী হতে চাই সেটা আমার ব্যক্তিগত। আমি নারী নাকি পুরুষ সেটা আমিই নির্ধারণ করব।’

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী খুশী কবীর। 

তিনি বলেন, ‘এ দেশে নানা বৈচিত্র্যের মানুষ আছে। এ বৈচিত্র্যকে আমরা একসঙ্গে পালন করতে শিখলেই আনন্দ ফিরে আসবে। সকল মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখব তখন।’ 

সবাইকে মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খুশী কবীর বলেন, ‘আপনারা মানুষ হন, মানুষকে সম্মান করতে শিখেন। আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। একসঙ্গে কেন বাচার চেষ্টা করছি না?’ 

নারী অধিকারকর্মী ও সাংগাতের সদস্য তপতী সাহা বলেন, ‘২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে পক্ষ পালন করা হয়। এই ১৬ দিনকেই কেন বেছে নেয়া হল সেই ইতিহাস অনেকেই জানেন না। ১৯৬০ সালে ডমিনিক্যাল রিপাবলিক নামে এক দেশে স্বৈরাচারী  নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনে ঝড় তুলেছিল তিন বোন। সেই তিন নারীর নাম ছিল ম্যাট্রিয়া, মিনারখা, মারিয়া। গণতন্ত্রের ও নারীর স্বাস্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন সেদিন তারা। তাদের মৃত্যু ইতিহাস হয়েছিল। ২৫ নভেম্বর তাদের হত্যা করে স্বৈরাচারী সরকার। পরে ২০০৯ সাল থেকে নারী নির্যাতন পক্ষ উদযাপন শুরু হয়।’ 

অনুষ্ঠানে নারী অধিকারের ওপর গান পরিবেশন করেন সাংগাতের সদস্য নাহিদ সুলতানা ও তার দল। নৃত্য পরিবেশন করেন সঞ্জীবনী সুধা,  সাংগাত পারফর্মিং স্পেইস বিডি ও মুক্তা ঠাকুর। আবৃত্তি পরিবেশনা করেন রাবিয়া সুলতানা পান্না।